জুনাঈদ আল হাবিব
স্টাফ রিপোর্টার
ফোন:01608783515
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অষ্টমী স্নান উপলক্ষে আয়োজিত মেলাকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার লাঠিয়ামারী ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী স্নানঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪-৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জুয়েল মিয়াকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরের মতো এবারও অষ্টমী স্নান উপলক্ষে লাঠিয়ামারী এলাকায় মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার পাশেই বসে জুয়া খেলার আসর। এ নিয়ে উজানচর নওপাড়া ও লাঠিয়ামারী এলাকার কয়েকজন তরুণের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়।
লাঠিয়ামারী স্নান উৎসব পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী জনি দে বলেন, ধর্মীয় এ আয়োজনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকলে পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
এদিকে রাজীবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকির জানান, জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এটি সরাসরি মেলার ভেতরে নয়, বরং উজানচর নওপাড়ার সড়কে ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, জুয়েল নামের ব্যক্তি জুয়া খেলায় বাধা দিলে বিরোধের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা আশপাশের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু মাদক, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, স্নানঘাট এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। জুয়া কেন্দ্রিক কোনো সংঘর্ষের তথ্য তাদের কাছে নেই। তার দাবি, দোকান বসানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যাতে জুয়েল নামে একজন আহত হন। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ