প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 5, 2026 ইং
শহরে ১০ বছরে সবচেয়ে দূষিত বাতাস

সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার :
বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণা কমানোর জন্য ২০১৬ সালে বিশ্বসেরার খেতাব পেয়েছিল রাজশাহী শহর। কিন্তু এখন রাজশাহীর বাতাস দূষিত। কিছুদিন আগে রাজশাহীর বাতাস ছিল দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত। যানবাহন থেকে নির্গত হওয়া কালো ধোঁয়া আর নির্মাণকাজের ধুলার কারণে দূষিত হয়ে উঠেছে এই শহরের বাতাস।
১০ বছরের ব্যবধানে এখন নিয়মিতই শহরটির বায়ুদূষণের কথা উঠে আসছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনে।
আইকিউএয়ার বাতাসের মাননির্ধারণে একটি তাৎক্ষণিক সূচক তৈরি করে, যা কোনো নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সেই সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিয়ে সতর্ক করে। পরিবেশ গবেষকরা বলছেন, বায়ুদূষণের নানা নিয়ামকের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো ফাইন পার্টিকুলার ম্যাটার (পিএম), যা পিএম ২.৫ হিসেবেও চিহ্নিত। বাতাসে মিশে থাকা অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা, গাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া; ইটভাটা ও নির্মাণকাজ থেকে এই কণার উৎপত্তি হয়।
এদিকে রাজশাহীতে এখনো ইটভাটাগুলো বন্ধ। কলকারখানাও তেমন নেই। তবে বায়ুদূষণ করছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও শহরজুড়ে চলমান নির্মাণকাজ থেকে তৈরি হওয়া ধূলিকণা।
এসব কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শংকর কে বিশ্বাস।
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে এখন সর্দি, জ্বর, কাশি, ফ্লু, ডেঙ্গু আছেই। এর সঙ্গে দূষিত বায়ু ফুসফুসে গেলে শিশু ও বয়স্ক এবং আগে থেকেই হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে ভোগা লোকজনের নানা অসুখ দেখা দেবে। বাতাসে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী পদার্থ থাকলে স্বাভাবিক মানুষেরও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দেবে। অ্যাজমা, হাঁপানি, যক্ষ্মা এবং ফুসফুসের ক্যানসারও হতে পারে। ’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শহরজুড়ে প্রচুর নির্মাণকাজ হচ্ছে।
কিন্তু বালু রাখা হচ্ছে রাস্তার ওপর। গাড়ি সেদিক দিয়ে গেলে চাকা উঠছে বালুর ওপর। বাতাসে ধূলিকণা বাড়ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পরিবেশবান্ধব হলেও সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে সেগুলোও চলাচলের কারণে ধুলোবালি ওড়াচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তো শোনা যায় না। ’
রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ-উল-হাসান বলেন, ‘আমাদের রাজশাহীর পরিবেশের সুনাম আছে। কিন্তু বাতাসের মান নিয়ে যে খবর এসেছে, এটা দুঃখজনক। এখন শহরে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। সে কারণে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় সেখান থেকে ধুলোবালি উড়ছে। পানি ছিটিয়ে এটা কমানো যায় কি না, সে জন্য সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখাকে বলা হয়েছে। তারা যেন ঠিকাদারদের দিয়ে এটা করান। ফ্লাইওভারগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলে এটা থাকবে না। ’
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ