প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 7, 2026 ইং
ভুরুঙ্গামারীতে আদালতের রায় ও মাউশি’র আদেশ অবমাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক,
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সন্দেহাতীতভাবে নির্দোষ ও বেকসুর খালাস এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক পুনর্বহালের আদেশ পাওয়ার পরও শিক্ষকদের কর্মস্থলে যোগদানে বাধা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে মানববন্ধন করা হয়েছে, তাকে একটি মহলের সাজানো ‘রাজনৈতিক নাটক’ এবং আদালতের রায়ের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও নির্দোষ প্রমাণঅনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ৬ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২০/১১/২০২৫ তারিখে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায়ে বিজ্ঞ আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে— "আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলার দায় হতে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।"খালাসপ্রাপ্ত সম্মানীত শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ হলেন:১. মোঃ লুৎফর রহমান (প্রধান শিক্ষক, নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। (সহকারী শিক্ষক)০২.মোঃ আমিনুর রহমান (সহকারী শিক্ষক)০৩.মোঃ হামিদুর রহমান (সহকারী শিক্ষক)০৪.মোঃ সোহেল আল মামুন (সহকারী শিক্ষক) ০৫মোঃ আবু হানিফ (অফিস সহকারী) ০৬. মো:সুজন (নিরাপত্তা কর্মী)অধিদপ্তরের আদেশ ও পুর্নাঙ্গ বেতন-ভাতা প্রদান :আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে গত ০৪/০৩/২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), ঢাকা এক আদেশের মাধ্যমে উক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে। একই সাথে তাদের পূর্ণাঙ্গ বেতন-ভাতা প্রদান ও স্ব-স্ব পদে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাউশি’র এই আদেশের পর উক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ গত মার্চ/২০২৬ মাসের পুর্নাঙ্গ বেতন ইএফটি (EFT) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন। অর্থাৎ সরকারিভাবে তাদের শিক্ষকতা পেশায় ও পদে বহাল থাকার বিষয়টি আইনগতভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। গদি রক্ষার লড়াই ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ:অভিযোগ উঠেছে, নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, যিনি স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী পদে রয়েছেন, তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আইনিভাবে খালাস পাওয়া এবং সরকারি আদেশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগদান করলে তিনি তার বর্তমান নিয়ন্ত্রণ হারাবেন—এমন ব্যক্তি-স্বার্থ থেকেই শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামিয়েছেন। মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক এজেন্ডা।আইনগত অবস্থান ও প্রশাসনের ভূমিকাআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায় এবং মাউশি’র পুনর্বহালের আদেশের পর শিক্ষকদের যোগদান করতে না দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কর্মসূচি পালন করা 'আদালত অবমাননা' (Contempt of Court) এবং সরকারি আদেশ লঙ্ঘনের শামিল। যেখানে সরকার তাদের বেতন-ভাতা চালু করেছে, সেখানে তাদের যোগদান ঠেকাতে বাচ্চাদের ব্যবহার করা আইনত ও নৈতিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়াস্থানীয়দের মতে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন শিক্ষক যখন আদালতের রায় ও অধিদপ্তরের নির্দেশে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ফিরে আসেন, তখন তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।উপসংহার:অবিলম্বে এই ‘নোংরা রাজনীতি’ বন্ধ করে আদালতের রায় ও মাউশি’র আদেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের সসম্মানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ