ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে শিপলু-সিমন বাহিনীর তাণ্ডব: জিম্মি শহরবাসী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 5, 2026 ইং
কিশোরগঞ্জে শিপলু-সিমন বাহিনীর তাণ্ডব: জিম্মি শহরবাসী ছবির ক্যাপশন: দৈনিক চেতনার কন্ঠ
ad728
নিউজ ডেস্ক : 


রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার ও নরসুন্দা নদীর লেকপাড় এলাকায় এক ভয়ংকর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে একটি চিহ্নিত কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী চক্র। গত ৫ই আগস্টের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে পৌর বিএনপি নেতার ছেলের নেতৃত্বে এই চক্রটি পুরো এলাকাকে জিম্মি করে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
​অপরাধের অভয়ারণ্য যখন লেকপাড়
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের আখড়াবাজার মোড় থেকে বড়বাজার লেকপাড় পর্যন্ত এলাকায় গত দুই বছর ধরে ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও একা চলাচলকারী পথচারীরা এই চক্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়াই তাদের প্রধান কাজ। লেকপাড়ের নির্জন স্থানগুলোতে আস্তানা গেড়ে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয় এই অপরাধীরা।
​নেতৃত্বে বিএনপি নেতার দুই ছেলে
​এই অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে নাম উঠে এসেছে কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম মাহবুবের বড় ছেলে শিপলুর। স্থানীয়দের দাবি, একসময় জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় পদধারী এই নেতা এখন রাজনৈতিক ভোল পাল্টে পিতার পরিচয় ব্যবহার করে দাপট দেখাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটে মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে তার ছোট ভাই সিমন, যে কি না গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সিমন তার বন্ধু ও অনুসারীদের নিয়ে বিশাল এই বাহিনী পরিচালনা করছে।
​অভিযুক্ত বাহিনীতে যারা রয়েছে: স্থানীয়দের অভিযোগে বারবার যাদের নাম উঠে আসছে তারা হলেন— চিহ্নিত ছিনতাইকারী সুজন, তারেক, মুরাদ, পাপন, জুবায়ের, বড় বাবু, ছোট বাবু, সৌরভ, রাতুল, রাহুল এবং জিহাদসহ আরও বেশ কয়েকজন।
​দায় এড়াতে ‘ব্লেম গেম’ ও হলুদ সাংবাদিকতা
​চক্রটি নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এখন সুকৌশলে ‘ব্লেম গেম’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কিছু সুযোগসন্ধানী সাংবাদিক দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
​ভয়ংকর তথ্য: প্রকৃতপক্ষে একটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও ২০টি বাড়ি ভাঙচুরের মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি নিজেদের চালানো ভাঙচুরের দায় ছাত্রলীগের ওপর চাপিয়ে দিয়ে প্রকৃত অপরাধ আড়ালের চেষ্টা করছে শিপলু-সিমন বাহিনী।
​নিউজ বা মামলায় যাদের নাম জড়ানো হচ্ছে, তাদের অনেকে ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি একজন অভিযুক্ত ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার সময় ঢাকায় থাকার অকাট্য প্রমাণ দিয়েছেন।
​বর্তমানে আখড়াবাজার ও লেকপাড় এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। শিপলু ও সিমন বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না; প্রতিবাদ করলেই মিলছে প্রাণনাশের হুমকি।
​ভুক্তভোগীদের দাবি: * ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার।
​লেকপাড় এলাকায় স্থায়ী পুলিশি টহল জোরদার।​পুরো এলাকা সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা।
​এলাকাবাসীর শঙ্কা, এখনই যদি এই নব্য সন্ত্রাসীদের দমানো না যায়, তবে কিশোরগঞ্জ শহর অচিরেই অপরাধীদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চেতনার কন্ঠ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ