প্রদীপ্ত চক্রবর্তী পটিয়া উপজেলা প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর এলাকায় এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩ লাখ টাকা মুক্তি পণের দাবীতে শিশুটি ২ দিন পূর্বে অপহত হয়েছিল। শিশুটির নাম জায়ান (৫)। সে পটিয়া পৌর এলাকার মো: শাহ জাহানের পুত্র। গতকাল ১৮ জুন পটিয়া পৌর সভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি ও পটিয়া থানা পুলিশের একটি যৌথ দল মরদেহটি উদ্ধার করে।
অপহরণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একই পরিবারের নারীসহ পাঁচ প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে । গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।
পটিয়া থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানায়, গত ১৬ জুন দুপুর ১২টার সময় বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় হঠাৎ শিশু জায়ান'কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না । অাশে পাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। পরে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।
সন্ধ্যায় জায়ানের বাবা মো: শাহজাহানের বিছানায় কে বা কারা একটি হাতে লেখা চিঠি ফেলে যায়। চিঠিতে লেখা ছিল- ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে আধ ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং তোদের পরিবারের একজনের আনলক করা মোবাইল একটি ব্যাগে করে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতরে রেখে দিয়ে যা ।’
শিশুটির বাবা চিঠিটি পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ উক্ত চিঠির সূত্র ধরে তদন্তে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন প্রতিবেশীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ড ও মরদেহের তথ্য দেয় । তাদের দেয়া তথ্যমতে গ্রেপ্তারকৃতদের বসতঘরের পেছনে থাকা ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য , টাকার লোভে প্রতিবেশীরা পরিকল্পিতভাবে শিশু জায়ানকে অপহরণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে নিসংশভাবে ভাবে হত্য করে । হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে । গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্হা নেওয়া হবে ।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ